ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তি এবং মৃতদেহের সন্ধানে দুই সপ্তাহ পরে আবারও অভিযান শুরু হয়েছে।
গত ২৪শে জানুয়ারী জাভার পশ্চিম বান্দুং অঞ্চলের একটি পাহাড়ি গ্রামে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিধস হয়। আগের দিন শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এতে বাড়িঘর চাপা পড়ে এবং শত শত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
এরপর পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় হাজার হাজার উদ্ধারকারী ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ থেকে হাত দিয়ে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৭৪ জন নিহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে।
সংস্থার প্রধান অ্যাডে ডিয়ান পারমানা বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় এখনও অনেক বাসিন্দা রয়েছেন। যাদের এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘন কুয়াশা এবং বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এদিকে দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, পাসিরলাঙ্গু গ্রামে আঘাত হানা ভূমিধসে আটকে পড়াদের মধ্যে ২৩ জন কর্মীও রয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ভূমিধসে প্রায় ৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, সরকার গত বছরের শেষের দিকে পার্শ্ববর্তী সুমাত্রা দ্বীপে বন্যা ও ভূমিধসে বনের ক্ষতির ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করেছে। যেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বর্ষাকালে ইন্দোনেশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ জুড়ে এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়।
সূত্র: এএফপি।

