বয়স মাত্র ২২ বছর। এরইমধ্যে ক্যারিয়ারে ৬টি গ্রান্ড স্ল্যাম জিতেছেন স্প্যানিশ তারকা কার্লোস আলকারাজ। ইউএস ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলন্ডন জয়ের পর অপেক্ষায় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ঘরে তোলার।
রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে কখনই কোয়ার্টার ফাইনাল পেরোতে পারেননি আলকারাজ। এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলে সবচেয়ে কম বয়সে চারটি ভিন্ন গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের অনন্য কীর্তি গড়বেন আলকারাজ।
সবচেয়ে কম বয়সে চারটি গ্রান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ডের মালিক এখন আলকারাজেরই স্বদেশি রাফায়েল নাদালের। ২৪ বছর বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন ২২ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী এই কিংবদন্তি। আলকারাজ এবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে ক্যারিয়ারে গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করার পথে এগোতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন টেনিস কিংবদন্তি রজার ফেদেরার।
মেলবোর্ন পার্কে এক সংবাদ সম্মেলনে ফেদেরার বলেন, ‘এত কম বয়সে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করা হলে তা হবে অবিশ্বাস্য। দেখি এই সপ্তাহে অসাধারণ কিছু করতে পারে কি না। আমি সত্যিই চাই সে জিতুক-টেনিসের জন্য এটা হবে দারুণ বিশেষ এক মুহূর্ত।’
আলকারাজের ঝুলিতে রয়েছে দুইটি উইম্বলডন, দুইটি ফ্রেঞ্চ ওপেন ও দুইটি ইউএস ওপেন শিরোপা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিততে পারলে চার গ্র্যান্ড স্ল্যামই পূর্ণ হবে তার।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ৪৪ বছর বয়সী ফেদেরার বলেন, ‘ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম সম্পূর্ণ করা সহজ নয়। ফ্রেঞ্চ ওপেন জিততে আমাকে অনেক অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ররি ম্যাকইলরয়ের মাস্টার্স জয়ের চেষ্টার মতো-এগুলো কঠিনই।’
বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর আলকারাজের সঙ্গে ইতালির ইয়ানিক সিনারের দ্বৈরথ ইতিমধ্যেই টেনিসভক্তদের মুগ্ধ করেছে। এই দ্বৈরথকে অনেকেই টেনিসের নতুন ‘সোনালী যুগ’ হিসেবে দেখছেন। ফেদেরার, নাদাল এবং জোকোভিচের মতো কিংবদন্তিদের উত্তরসূরি হিসেবে এই দুই তরুণ তুর্কি কোর্টে আধিপত্য বিস্তার করে লড়ছেন। গত আটটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম দুজনই ভাগাভাগি করে জিতেছেন এবং টানা তিনটি ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছেন।
ফেদেরার বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ওদের উন্নতি অসাধারণ। দুজনই দুর্দান্ত বল স্ট্রাইকার। সামনে আরও অনেক কিছু দেখার আছে। আশা করি, তারা চোটমুক্ত থাকবে।’
২০২০ সালের পর এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে এসেছেন ফেদেরার। শনিবার তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারকে সম্মান জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ও ১০৩টি এটিপি শিরোপাজয়ী এই সুইস কিংবদন্তি অবসর জীবন উপভোগ করছেন পরিবার ও সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে।

