ভারতের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী পেসার জহির খান এবার একটি নতুন উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। তবে খেলোয়াড়, মেন্টর কিংবা কোচ হিসেবে নয়, বরং একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে। নিজের ব্যবসায়িক পরিধি বাড়িয়ে খান ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি লিগ (ইইউটি-২০) বেলজিয়াম ক্রিকেট লিগের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘অ্যান্টওয়ার্প অ্যাঙ্করস’-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বাঁ-হাতি পেসার এবং এলএসজি-র সাবেক আইপিএল মেন্টর জহির খান এখন তার কিংবদন্তিতুল্য খ্যাতিকে অ্যাঙ্করস-এর সাথে যুক্ত করেছেন, যা এই লিগের তারকা উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠাতা দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও শক্তিশালী করবে।
উল্লেখ্য, ইইউটি২০ বেলজিয়াম ক্রিকেট লিগ ৪ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হবে, যা মহাদেশীয় ইউরোপের ক্রিকেটের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। জহির খান এখন অ্যান্টওয়ার্প অ্যাঙ্করস-এর সহ-মালিক।
এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তিনি লিগের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ, বিপণন সামগ্রী এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে একজন অংশীদার ও মূল ব্যক্তিত্ব হিসেবে যুক্ত হলেন। লিগে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পরিকল্পনায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
মহাদেশীয় ইউরোপে ক্রিকেটের প্রসারের লক্ষ্যে বেলজিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশন এবং ভারত-সমর্থিত গোষ্ঠী ডেস্টিনো লেজেন্ডস স্পোর্টস এলএলসি-এর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। টুর্নামেন্টে একটিমাত্র রাউন্ড-রবিন লিগ পর্ব এবং এরপর চারটি ম্যাচের প্লে-অফ পদ্ধতি থাকবে, যা আইপিএল এবং বিশ্বের অন্যান্য লিগ ম্যাচের মতোই। এতে কোয়ালিফায়ার ১, এলিমিনেটর, কোয়ালিফায়ার ২ এবং ফাইনাল অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান এই লিগের গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উদ্বোধনী মৌসুমে বেলজিয়ামের প্রধান শহরগুলোর প্রতিনিধিত্ব করবে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি: অ্যান্টওয়ার্প অ্যাঙ্করস, জেবি ব্রুজ, লিজ রেড লায়ন্স, রয়্যাল ব্রাসেলস, ঘেন্ট এবং লুভেন।
প্রতিটি দলের জন্য ১৮ সদস্যের স্কোয়াড চূড়ান্ত করতে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মার্চের মধ্যে একটি প্লেয়ার ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে। তবে, বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকাকে ইতোমধ্যেই মার্কি প্লেয়ার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে।অ্যান্টওয়ার্প অ্যাঙ্করস দলে থাকবেন আন্দ্রে রাসেল, আর রয়্যাল ব্রাসেলস দলে থাকবেন সাকিব আল হাসান। জেবি ব্রুজের হয়ে থাকবেন রাসি ফন ডার ডুসেন এবং লিয়েজ রেড লায়ন্সের হয়ে থাকবেন শোয়েব মালিক ও কোরি অ্যান্ডারসন।
লিগটি যখন উত্তেজনা তৈরি করছে, তখন জহির খানও এই উদ্যোগ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সহ-মালিক হিসেবে নাম ঘোষণার পর তিনি লিগ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি উভয় বিষয়েই নিজের ভাবনা তুলে ধরেন।
এ প্রসঙ্গে জহির খান বলেন, ক্রিকেটের জন্য ইউরোপ একটি বিশাল ক্যানভাস এবং আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি এখানে যা কিছু সম্ভব, আমরা তার কেবল শুরুতেই আছি। অ্যান্টওয়ার্প অ্যাঙ্করসের সহ-মালিক হওয়াটা শুধু একটি ব্যবসায়িক প্রস্তাব নয়- এটি একেবারে গোড়া থেকে অর্থবহ কিছু গড়ে তোলার অংশ হওয়ার একটি সুযোগ।
তিনি বলেন, বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করে তা হলো এই মহাদেশ জুড়ে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার এবং সেই খেলোয়াড়দের তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পারফর্ম করার জন্য পরিবেশ, বিশ্বাস এবং প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার সুযোগ। যা সবসময়ই আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি ছিল। আমি জুনে ব্রাসেলসে যাওয়ার এবং কাজ শুরু করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।
এদিকে অ্যান্টওয়ার্পের মালিক নাগেন্দ্র সিদ্দৌতমও বলেছেন জহির সহ-মালিক হিসেবে যোগ দেওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি একজন মাস্টার ক্রিকেটার এবং পরামর্শদাতার এক শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে জহিরের মর্যাদার প্রশংসা করেন। খানকে সহ-মালিক হিসেবে পাওয়াটাই অ্যান্টওয়ার্প অ্যাঙ্করস কিসের প্রতিনিধিত্ব করে তার সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত। তিনি এই খেলার একজন কিংবদন্তি, একজন প্রমাণিত বিজয়ী এবং এমন একজন যিনি জানেন কীভাবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে হয়।
তার সম্পৃক্ততা শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য একটি বড় পদক্ষেপই নয়, বরং ইউরোপীয় ক্রিকেট সম্প্রদায়ের বিকাশে সহায়তা করার একটি শক্তিশালী সুযোগও বটে। আকর্ষণীয় কোচিং ক্যারিয়ারের জন্য জহির খানের ওপর আস্থা
প্রসঙ্গত, খানের কোচিং এবং মেন্টরশিপ যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালে, যখন তিনি প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রীর পাশাপাশি ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলিং পরামর্শক হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১৮ সালে, তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ক্রিকেট অপারেশন্স ডিরেক্টর হন এবং পরে, ২০২২ সালে, তিনি গ্লোবাল হেড অফ ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হন, যেখানে তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান দিকগুলো তত্ত্বাবধান করতেন।
সেই পদে দুই বছর থাকার পর, জহির খান লখনউ সুপার জায়ান্টস (এলএসজি)-এ মেন্টর হিসেবে যোগ দেন, যেখানে তিনি স্কাউটিং এবং কৌশলের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৬ সালের মার্চ মাসে তিনি বিসিসিআই পেস ডেভেলপমেন্ট কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

