রুশ বাহিনীর হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একদিন পর পালটা হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ভোলগোগ্রাদের একটি তেল ডিপোতে আগুন ধরে গেছে। ডিপোর আশপাশে বসবাসরত লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই বোচারভ।
টেলিগ্রামে বার্তায় আন্দ্রেই বোচারভ বলেন, তেল ডিপোতে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিতও জানা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি জানান, তেল ডিপোর আশপাশে বসবাসরত লোকজনকে প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়া হবে।
শনিবারের এই হামলার একদিন আগেই রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর রাতভর শত শত ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, ওই হামলায় কিয়েভে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো রাশিয়া শক্তিশালী নতুন ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করে।
ইউক্রেন দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা করছে। তাদের লক্ষ্য, তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া রাশিয়ার রাজস্ব কমিয়ে দেওয়া।
অন্যদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো বিপর্যস্ত করতে হামলা জোরদার করেছে। কিয়েভের কর্মকর্তারা বলছেন, শীতের মধ্যে সাধারণ মানুষের তাপ, আলো ও পানির সুবিধা কেড়ে নিতে রাশিয়া শীতকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, শুক্রবার ও দিনগত রাতে তাদের বাহিনী বিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও আর্টিলারি ব্যবহার করে ইউক্রেনের জ্বালানি ও শক্তি সংক্রান্ত স্থাপনায় হামলা করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানায়নি।
এদিকে, ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বলছে, শুক্রবার রাতভর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হামলায় ১২১টি ড্রোন ও একটি ইস্কান্ডার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া। এর মধ্যে ৯৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়।

