ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক আসক্তিকর ফিচার যথাযথভাবে সীমিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন (ইইউ)। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রাথমিক সিদ্ধান্তে এ তথ্য জানানো হয়।
ইইউ বলছে, টিকটকের নকশা ইউরোপের ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করেছে। টিকটক ইনফিনিট স্ক্রলের মতো ফিচারের ওপর নির্ভর করছে। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্ক্রিন রিফ্রেশ করলেই নতুন কনটেন্ট দেখাতে থাকে।
নিয়ন্ত্রকরা বলছেন, এই ধরনের নকশা ব্যবহারকারীদের মস্তিষ্ককে ‘অটোপাইলট’ অবস্থায় নিয়ে যায়। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর মানসিক পরিস্থিতি এমন অবস্থায় চলে যায়, যেখানে সে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অভ্যাসের বশে কাজ করতে থাকে। এর ফলে ব্যবহারকারী বারবার অ্যাপ ব্যবহার করতে ও টানা স্ক্রল করতে উৎসাহিত বোধ করে।
কমিশন বলছে, এই নকশা বাধ্যতামূলক আচরণ বা কমপালসিভ ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রযুক্তি সার্বভৌমত্ব বিষয়ক নির্বাহী সহসভাপতি হেনা ভিরকুনেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের সেবার মাধ্যমে নেতিবাচক প্রভাবের জন্য অবশ্যই দায়বদ্ধ।
ইউরোপীয় কমিশনের মতে, টিকটককে তাদের সেবার মৌলিক নকশা পরিবর্তন করতে হবে। কমিশন বিশেষভাবে টিকটকের ‘ডেইলি স্ক্রিন টাইম’ ফিচার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এই ফিচারে ৩ থেকে ১৭ বছর বয়সি ব্যবহারকারীদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করা থাকে। তবে এই সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর নয়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো টিকটকের ‘অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কমিশনের এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে টিকটকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম নিয়ে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে। কোম্পানিগুলো তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না সে প্রশ্ন তুলছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।

