আরব আমিরাতকে হারিয়ে আশা টিকিয়ে রাখলো আফগানিস্তান

0
আরব আমিরাতকে হারিয়ে আশা টিকিয়ে রাখলো আফগানিস্তান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে আফগানিস্তান। এই জয়ের মধ্যে দিয়ে সুপার এইটে নিশ্চিত হয়েছে গেল দক্ষিণ আফ্রিকার। একইসঙ্গে সুপার এইটে ওঠার লড়াইয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছে তারা।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিল্লীর অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে আমিরাতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আফগানিস্তান। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই ওপেনার আরিয়ানশ শর্মার উইকেট হারায় আমিরাত। পরের ওভারে বিদায় নেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম। আরিয়ানশ ৪ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। ওয়াসিম ৬ বলে করেছিলেন ১০ রান। দলের ১৩ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার।

এরপর দলের হাল ধরেন আলিশান শারাফু এবং সোহাইব খান। তাদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৫৫ রান তোলে আমিরাত। পাওয়ারপ্লে শেষেও চলেছে দুজনের তাণ্ডব। শারাফু এবং সোহাইবের উইলোবাজিতে গতি পায় আমিরাতের ইনিংস। ফিফটির খুব কাছে গিয়েও অবশ্য ফিফটিটা ছুঁতে পারেননি শারাফু। দলের ৯৭ রানের মাথাতে ৩০ বলে ৪১ রান করে বিদায় নেন তিনি।

সোহাইব এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন। আরেক প্রান্তে ব্যাটাররা সেভাবে থিতু হতে পারছিলেন না। ১০ বলে ১৩ রান করেছেন সৈয়দ হায়দার। এরপর অনেকে ক্রিজে এসেই বিদায় নিয়েছেন। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন সোহাইব। ফিফটির পরেও ছুটেছেন। শেষের আগের ওভারে আউট হওয়া সোহাইব ৪৮ বলে ৬৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে বিদায় নেন।

বাকিদের মধ্যে হায়দার আলী ১২ বলে ১৩ রান করে শেষ ওভারে রান আউট হয়েছেন। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। আফগানিস্তানের হয়ে মাত্র ১৫ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেছেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ২ উইকেট নিয়েছেন মুজিব উর রহমান। ১ উইকেট নিয়ে ৭০০ উইকেট এর মাইলফলক স্পর্শ করেছেন রশিদ খান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজের উইকেট হারিয়েছে আফগানিস্তান। ২ বল খেলে ডাক মেরে সাজঘরে ফিরে যান গুরবাজ। এরপর ক্রিজে জুটি বাঁধেন গুলবাদিন নাইব এবং ইবরাহিম জাদরান। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে রান বের করেছেন দুজন। নাইব ১২ বলে ১৩ রান করে দলের ৪০ রানের মাথাতে থেমেছেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৪১ রান তোলে আফগানিস্তান।

এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন ইবরাহিম। চারে নেমে তার সাথে যোগ দিয়েছেন সেদিকউল্লাহ আতাল। ১৪ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলে দলের ৭০ রানের মাথাতে থেমেছেন আতাল। আপন গতিতে ছুটেছেন ইবরাহিম। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে রান বের করেছেন। তুলে নিয়েছেন দারুণ এক ফিফটিও।

ফিফটির পর বেশি দূর আগাতে পারেননি ইবরাহিম। ৪১ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলে দলের ৯৭ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন ইবরাহিম জাদরান। এরপর ক্রিজে জুটি বাঁধেন ডারউইশ রাসুলি এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দুজনের জুটিতে অনেকটাই এগিয়ে যায় আফগানরা। ২৩ বলে ৩৩ রান করে থামেন রাসুলি।

শেষ দিকে ওমরজাইয়ের সাথে যোগ দেন মোহাম্মদ নবী। দুজনে মিলে কাজটা সেরেছেন বেশ সহজেই। ৪ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতেছে আফগানিস্তান। ২১ বলে ৪০ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন ওমরজাই। নবী টিকে ছিলেন ৩ বলে ৩ রান করে। আমিরাতের হয়ে মোহাম্মদ আফরান এবং জুনাইদ সিদ্দিকী ২টি করে উইকেট নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here