চেক প্রত্যাবর্তন মামলায় কারাবাসের ঘটনায় জীবনের কিছু অদেখা দিক সামনে এসেছে বলিউডের কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদবের কাছে। কারাগারের কঠোর নিয়ম এবং বিপদের সময়ে সহকর্মীদের পাশে থাকায় জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে এই অভিনেতার।
হিন্দি সিনেমার পরিচালক ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খানের ইউটিউব ভ্লগে অংশ নিয়ে কারাগারে কাটানো দিনগুলির কথা তুলে ধরেন রাজপাল যাদব।
টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ফারাহ খান তার এবারের ভ্লগে রাজপাল যাদবের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে তারা সিনেমা নিয়েও গল্প করেন, যাদব তাকে নিজ হাতে রান্না করেও খাইয়েছেন।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ফারাহ কারাবাসের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে যাদব বলেন, সেখাকার নিয়মশৃঙ্খলা কঠোরভাবে মেনে চলেছেন তিনি এবং সব কিছু মানিয়ে নিয়েই থাকতে হয়েছে।
“ওখানে কোনো পাখা ছিল না, অনেক ধরনের অসুবিধা রয়েছে। তবে নিয়মে বাঁধা জীবন। আমি এখন যে কোনো জায়গায় মানিয়ে নিতে পারব।’’
রাজপালের এই দৃষ্টিভঙ্গিতে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন ফারাহ। তার প্রশ্ন ছিল রাজপাল কী বিষয়টি দার্শনিকভাবে দেখছেন, নাকি তার মধ্যে কোনো তিক্ততা বা রাগ কাজ করেছে। উত্তরে রাজপাল বলেন, “আমি সব ধরনের পরিস্থিতিতে বাঁচতে শিখেছি।”
কারাগারে থাকা অবস্থায় কোনো কাজ করতে হয়েছে কী না প্রশ্নে রাজপাল বলেছেন, “রান্নাঘর বা অন্য কোনো কাজে যুক্ত করা হয়নি। কারণ সেই পরিস্থিতি আসেনি।’’
রাজপাল যাদবের ভাষ্য, “ভারতীয় সিনেমা তাকে অনেক কিছু দিয়েছে। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে ভারতীয় সিনেমার প্রভাব রয়েছে। অনেকেই নাম না জানলেও আমাকে মুখ দেখে চিনে। তাই কোনো সমস্যায় পড়লে আমি সিনেমা পরিবারের মধ্যেই থাকব।”
কারাগার থেকে বের হওয়ার পর কতজন পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রশ্নে যাদব বলেন, “পুরো পৃথিবী আমার পাশে ছিল। অনেকেই নীরবে আমাকে আর্থিক, মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন।”
এছাড়াও সোনু সুদ, তেজ প্রতাপ যাদব, ইন্দ্রজিত রাও, অমিত শর্মাসহ অনেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাজপাল যাদব।
গত ফেব্রুয়ারিতে ৯ কোটি রুপির চেক প্রত্যাবর্তন মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছিল যাদবকে। এগারো দিন কারাভোগের পর জামিন পেয়েছিলেন তিনি।

