আন্দোলনে নামা অতিরিক্ত কমিশনারকে লঘুদণ্ড দিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

0
আন্দোলনে নামা অতিরিক্ত কমিশনারকে লঘুদণ্ড দিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

এনবিআর ভেঙে দুই ভাগ করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে ভাগ করে অধ্যাদেশ জারি এবং চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় সাময়িক বহিষ্কার হওয়া অতিরিক্ত কর কর্মকর্তা মির্জা আশিক রানা নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের শুনানিও প্রত্যাখ্যান করেছেন। শেষে শাস্তি হিসেবে তিন বছরের জন্য ‘বেতন গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে অবনমিতকরণ’ করে সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুনানিতে অংশ নেওয়া অপর কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিনকেও একই লঘুদণ্ড দিয়ে সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে এ সম্পর্কিত ভিন্ন দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মির্জা আশিক রানা কর অঞ্চল-৮ এ কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ন্যস্ত হন।

আশিক রানা রাজস্ব বোর্ড সংস্কারে সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ প্রত্যাহার ও এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচিতে যোগ দেন। সে সময়ে তাকে অন্যত্র বদলি করা হলে বদলির আদেশ এনবিআরের প্রবেশদ্বারে গণমাধ্যমের সামনে প্রত্যাখ্যান করেন ও ছিঁড়ে ফেলেন।

বিষয়টিকে সরকারি চাকরিবিধি মোতাবেক অসদাচরণ পর্যায়ের শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এনবিআর এবং গুরুদণ্ড বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। একই কাজের জন্য অন্যান্য কর্মকর্তারা সমপর্যায়ের বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার কৈফিয়তের জবাব দাখিল করে ব্যক্তিগত শুনানি প্রার্থনা করলেও আশিক রানা তা করেননি।

লঘুদণ্ড দেওয়া অপরজন হলেন কর অঞ্চল কুষ্টিয়ার যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন। তিনিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দুই ভাগে ভাগ করে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কারের কার্যক্রম শুরু ও এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচির পর বদলির আদেশ পেয়েছিলেন।

যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল তিনি সেই আদেশ ‘১৪ জুন সাড়ে বেলা ১১টায় রাজস্ব ভবনের প্রবেশ পথে অবস্থান করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২২ জুন তারিখের জারিকৃত বদলির আদেশ আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে অবজ্ঞাপূর্বক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে ছিঁড়ে ফেলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে আদেশ অমান্যকারীকে সমর্থন করেন’।

মোরশেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ তদন্তে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তারপর তার কারণ দর্শানোর জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় নথি ও অন্যান্য কাগজপত্রসহ প্রাসঙ্গিক সব বিষয় পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধিমোতাবেক তাকে বিদ্যমান ‘বেতন গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে অবনমিতকরণ’ লঘুদণ্ড তিন বছরের জন্য প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

একই অপরাধে মির্জা আশিক রানাকে একই শাস্তি দেওয়া হয়। দুজনেরই চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে এনবিআর।

এর আগেও তিন দফায় অন্যান্য কর্মকর্তাদের লঘুদণ্ড দিয়ে সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here