আদালতের রায়ের পর ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ কার্যকর

0
আদালতের রায়ের পর ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ কার্যকর

ভারতে প্রথমবারের মতো আদালতের অনুমতিতে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকা হরিশ রানা লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার পর মারা গেছেন, যা দেশটির চিকিৎসা ও আইনি ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে হরিশের মা বাবা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে ১১ মার্চ আদালত তাকে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ দেন। আদালতের নির্দেশে ১৪ মার্চ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দুই দিন পর ধাপে ধাপে লাইফ সাপোর্ট সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১১ দিনের মাথায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর পর তার কর্নিয়া, হার্ট ভালভসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও টিস্যু দান করেছেন তার মা বাবা। এতে মানবিকতার একটি উদাহরণ স্থাপিত হয়েছে।

২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাত পান হরিশ। এরপর থেকেই তিনি কোমায় ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য ট্রাকোস্টমি টিউব এবং খাবারের জন্য গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টমি টিউবের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

চিকিৎসকদের মতে, তার সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় ছিল না বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে তার মা বাবা মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।

সুপ্রিম কোর্ট রায়ে বলেন, দীর্ঘ সময়েও যখন কোনো উন্নতি দেখা যায় না এবং রোগীর ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে না, তখন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে না। একই সঙ্গে আদালত ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বিষয়ে দ্রুত আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান।

আদালতের নির্দেশে হরিশকে গাজিয়াবাদের বাসা থেকে এইমসের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। ডা. সীমা মিশ্রর নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

এর আগে ২০১১ সালে অরুণা শানবাগ মামলায় ভারতে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বৈধতা পেলেও তা কার্যকর হয়নি। ফলে হরিশ রানার ক্ষেত্রেই প্রথমবারের মতো এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হলো।

সূত্র: এনডিটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here