পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, আমাকে যদি আঘাত না করেন আমি খুব ঠান্ডা, শীতল বাতাসের মতো বয়ে যাই কিন্তু আঘাত করলে আমি প্রত্যাঘ্যাত করি, আমি টর্নেডো হয়ে যাই। আমি তুফান হয়ে যাই, ঝড় হয়ে যাই, কালবৈশাখী হয়ে যাই। আমাকে রোখার সাধ্য আপনাদের নেই। আমাকে জেলে ভরো বা গুলি করো, আমি পরোয়া করি না। আমি সব কিছুর জন্য তৈরি আছি। আমি জেলে গেলে মা-বোনেরা জবাব দেবে।
ভারতের কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে নিশানা করে মমতার এই হুঁশিয়ারি। বুধবার রাজ্যটির হুগলি জেলার সিঙ্গুরে একটি সভা থেকে মূলত এসআইআর বা ভোটার তালিকায় সংশোধনের নামে মানুষের নাম বাদ দেওয়া, বাংলা-ভাষী মানুষদের উপর অত্যাচার, রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার অভিযোগ এনে মূলত এই হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী।
তার অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বললে বিহার, উত্তর প্রদেশ, ওড়িশা, রাজস্থান, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশে মারধর করা হয়। আমরা তো এখানে কাউকে মারিনা, কারো অধিকার কেড়ে নিই না। কেউ আমাদের পক্ষে থাকতে পারে, বিপক্ষে থাকতে পারে এটাই গণতন্ত্র। কিন্তু তাই বলে তাকে হত্যা করতে হবে? এজেন্সি লাগাতে হবে?’
রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতার অভিযোগ এসআইআর-এর নামে এনআরসি করার চক্রান্ত হচ্ছে, চক্রান্ত করে মানুষের নাম কাটছে। মানুষকে হত্যা করার চক্রান্ত নিয়ে যারা রাস্তায় নেমেছে আমি তাদের ধিক্কার জানাই।
তারাভিযোগ, সংখ্যালঘু, উপজাতি দেখলেই ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে বাদ দেওয়া হচ্ছে। অনেক হিন্দুও মারা গেছে। আমি মনে করি ওরা হিন্দু হিন্দু করে হিন্দুদের হত্যা করছে।
মমতার কথায়, আমি মরে যাব, সেটাও আমার কাছে ভালো। কিন্তু আমি যদি কথা দিই, সেই কথা রাখি। ১০০ শতাংশ রাখি। আমি মিথ্যা বলি না। আমি ডাবল ইঞ্জিন সরকার নই। আমাদের সরকার মানুষের সরকার, মা-মাটি-মানুষের সরকার। আমরা যতদিন সরকারে থাকবো ততদিন কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী, স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ প্রকল্প বন্ধ হবে না।
আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দিল্লিতে যাবার ইঙ্গিত দিয়ে রেখে মমতা বলেন, আমার আজকেই দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। দিল্লি কা লাড্ডুর একটু চেহারা দেখার জন্য। কিন্তু যেহেতু একটা ঘটনা ঘটে গেছে, তাই আমি যেতে পারিনি। কিন্তু আজ না হলে কালকে আমি যাবই। কারণ আপনারা (বিজেপি) মানুষের অধিকার কাড়বেন, আর আমি চুপ করে বসে থাকব এটা হয় না। দরকার হলে আমিও আদালতে গিয়ে দাঁড়াবো।

