আকাশপথ উন্মুক্ত করায় প্রতিযোগিতার চাপে কানাডীয় এয়ার লাইন্স

0
আকাশপথ উন্মুক্ত করায় প্রতিযোগিতার চাপে কানাডীয় এয়ার লাইন্স

কানাডা সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য আকাশপথে প্রতিযোগিতা আরও উন্মুক্ত করায় দেশটির বিমান খাতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে কানাডীয় এয়ারলাইন্সগুলোকে সেবা ও মান উন্নত করতে গ্রাহকদের বাড়তি প্রত্যাশার মুখে পড়তে হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডার বিমান খাতে প্রতিযোগিতার অভাব, উচ্চ ভাড়া, যাত্রী অধিকার ও প্রবেশগম্যতা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। বিপরীতে এমিরেটসের মতো মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্সগুলো তাদের বিশ্বমানের ফার্স্ট ক্লাস সেবার জন্য পরিচিত- যার মধ্যে রয়েছে ক্যাভিয়ার খাবার, বিলাসবহুল স্লিপিং পড এবং বিমানের ভেতর শাওয়ার সুবিধা।

এ অবস্থায় ফেডারেল সরকার সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে কানাডায় আসা ফ্লাইটের ওপর দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতীতে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এসব দেশের ফ্লাইট সংখ্যা সীমিত ছিল।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে নিজস্ব বিমান শিল্প রক্ষার যুক্তিতে ইউএই থেকে অতিরিক্ত ফ্লাইটের অনুমতি দেয়নি কানাডা। সে সময় এয়ার কানাডা অভিযোগ করেছিল, এমিরেটসের মতো এয়ারলাইন্স কানাডীয় যাত্রীদের দুবাই হয়ে তৃতীয় দেশে নিয়ে যায়, অথচ এতে কানাডীয় সংস্থাগুলোর তেমন লাভ হয় না। এর প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তানে কানাডীয় সেনাদের ব্যবহৃত একটি গোপন লজিস্টিক ঘাঁটি থেকে কানাডাকে সরিয়ে দেয় ইউএই।

অন্যদিকে, ২০১৮ সালে সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কানাডার সমালোচনার জেরে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে সব ফ্লাইট স্থগিত রেখেছিল রিয়াদ।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছেন। নভেম্বরে ইউএই সফর শেষে তিনি বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি নতুনভাবে গঠিত হচ্ছে। কানাডা পিছিয়ে পড়ছে না।” ওই সফরে ইউএই কানাডায় ৭০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়।

এর এক সপ্তাহ পর পরিবহনমন্ত্রী স্টিভেন ম্যাককিনন ঘোষণা দেন, সৌদি আরব থেকে কানাডায় যাত্রীবাহী ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়ে সপ্তাহে ১৪টি করা হবে, যা আগে ছিল চারটি। একই সঙ্গে ইউএই থেকে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়ে সপ্তাহে ৩৫টি করা হচ্ছে, যা আগে সর্বোচ্চ ছিল ২১টি। পাশাপাশি উভয় দেশের জন্য অসীম কার্গো ফ্লাইটের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

চুক্তিটি পারস্পরিক হওয়ায় কানাডীয় এয়ারলাইন্সগুলোও একই সংখ্যক ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালনার সুযোগ পাবে। পরিবহনমন্ত্রী স্টিভেন ম্যাককিনন বলেন, “এটি আমাদের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার এবং বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে আরও উন্মুক্তভাবে যুক্ত হওয়ার কৌশলের অংশ।”

ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ও বিমান বিশেষজ্ঞ জন গ্রাডেক বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্সগুলো বিশ্বজুড়ে তাদের উচ্চমানের সেবার জন্য ঈর্ষণীয়। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে কানাডীয় এয়ারলাইন্সগুলোকে নিজেদের মান বাড়াতেই হবে।” 

তিনি আরও বলেন, “এয়ার কানাডা, ওয়েস্টজেট ও এয়ার ট্রান্সাটের মতো সংস্থাগুলোকে বিমানের ভেতরের সেবা, সুযোগ–সুবিধা এবং কেবিন কনফিগারেশন নতুন করে ভাবতে হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here