রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রাণি স্বাস্থ্য প্রদর্শনী।
বৃহস্পতিবার আইসিসিবির পুষ্পগুচ্ছ হলে ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু সুফিয়ান প্রমুখ।
আয়োজক সংস্থা অ্যানিম্যাল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আহকাব) জানিয়েছে, আগামী শনিবার (১০ জানুয়ারি) শুক্রবার পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা আখতার বলেন, প্রাণিকে শুধু খাদ্যের উৎস হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রাণির স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পরিবেশকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, মাছ, পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতে রোগব্যাধি, ভ্যাকসিন এবং নিরাপদ ফিডের বিষয়গুলো এখনও যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না, যা ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ফিশ ভ্যাকসিন ও নিরাপদ ফিড উৎপাদনে গবেষণা জোরদার করার পাশাপাশি কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে দায়িত্বশীল উৎপাদনের মাধ্যমে এই খাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, বাংলাদেশে প্রাণি স্বাস্থ্যের জন্য একটি পৃথক ড্রাগ অ্যাক্ট প্রণয়ন এবং স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠন জরুরি।
তিনি জানান, প্রাণি স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
আহকাব জানায়, প্রাণি স্বাস্থ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য।
এবারের এক্সপোতে বিশ্বের ১৪টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ মেলায় রয়েছে ১২৮টি বিদেশি স্টল এবং ৬৫ জন আন্তর্জাতিক প্রদর্শক।
পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রাণি স্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধুনিক পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করছে।
প্রদর্শনীতে চীন, ভারত, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, মিশর ও রোমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে।
এক্সপোতে আধুনিক ভ্যাকসিন, ওষুধ, ফিড সলিউশন, ডায়াগনস্টিকস এবং নতুন প্রযুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাণি স্বাস্থ্য, টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে সেমিনার ও জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

