আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আকস্মিক সমাপ্তি নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন কেভিন পিটারসেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগকে (আইপিএল) প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণেই ইংল্যান্ডের তৎকালীন ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এর জের ধরে শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলে তার পথচলা শেষ হয়ে যায়।
সম্প্রতি ভারতীয় ইউটিউবার রণবীর এলাহাবাদিয়ার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় এমনটাই জানিয়েছেন পিটারসেন।
তিনি জানান, আইপিএলের শুরুর দিকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) তাদের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের আইপিএলে খেলার অনুমতি দিতে নারাজ ছিল। তখন তিনি সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার এই অনড় অবস্থানের কারণে বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
বর্তমানে ইংলিশ ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলার পথ সুগম করার পেছনে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন পিটারসেন। তিনি বলেন, আমি অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার করেছি। আমি আমার ক্যারিয়ার হারিয়েছি। এর কারণ হলো সেই সময়কার ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবাই আমার বিপক্ষে চলে গিয়েছিল।
পিটারসেন মনে করেন, স্বেচ্ছায় অবসর না নিলেও তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আগেভাগেই শেষ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের জার্সিতে যখন আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ৩৩ বছর। আমি ১০৪টি টেস্ট খেলেছি। অথচ আমার খেলা উচিত ছিল ১৫০-১৬০টি টেস্ট এবং আমার রান হওয়া উচিত ছিল ১২ থেকে ১৩ হাজার। আমার প্রাপ্তি এমনটাই হওয়ার কথা ছিল।
ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পিটারসেন মনে করেন, তার সেই আত্মত্যাগই বর্তমান প্রজন্মের ইংলিশ ক্রিকেটারদের বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অবাধে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, কদিন আগে আমি জস বাটলারের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, সে-ও আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। আমি ত্যাগ স্বীকার করেছিলাম বলেই আজ তারা এর সুফল ভোগ করতে পারছে।
২০০৯ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএলে অভিষেক হয়েছিল পিটারসেনের। পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ড জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর তিনি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে নিয়মিত খেলেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে ২৩টি সেঞ্চুরিসহ ৪৭.২৮ গড়ে ৮ হাজার ১৮১ রান নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেন তিনি।

