৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের (অস্কার) ‘ইন মেমোরিয়াম’ বিভাগে প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর নাম না থাকায় বলিউড ও ভারতের সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত এই জমকালো আয়োজনে রবার্ট রেডফোর্ড, রব রেইনার এবং ডায়ান কিটনদের মতো বিশ্ববরেণ্য তারকাদের শ্রদ্ধা জানানো হলেও, ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপালি পর্দা কাঁপানো ধর্মেন্দ্রকে বাদ দেওয়ায় ক্ষোভ ঝরেছে সহকর্মী ও স্বজনদের কণ্ঠে।
অভিনেতার স্ত্রী ও প্রবীণ অভিনেত্রী হেমা মালিনী এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, অস্কার কর্তৃপক্ষ এমন একজন অভিনেতাকে উপেক্ষা করেছে যাকে বিশ্বের বহু প্রান্তের মানুষ চেনেন ও ভালোবাসেন। হেমা আরও যোগ করেন যে, ধর্মেন্দ্র জীবদ্দশাতেও খুব বেশি পুরস্কার পাননি, তবে তাতে তার কিছু যায় আসে না, কারণ ভারতের মানুষের ভালোবাসাই তাদের কাছে সব থেকে বড় প্রাপ্তি।
একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধর্মেন্দ্রর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রবীণ তারকা শত্রুঘ্ন সিনহা। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দিলীপ কুমার বা লতা মঙ্গেশকরের মতো কিংবদন্তিদের পর এখন ধর্মেন্দ্রকে সম্মান না দেওয়াটা অস্কার কর্তৃপক্ষের জন্যই লজ্জার বিষয়। তার মতে, পশ্চিমের স্বীকৃতি না পেলেও এই শিল্পীরা এ দেশের মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।
অন্যদিকে ধর্মেন্দ্রর মেয়ে এশা দেওল কিছুটা নমনীয় সুরে বলেন, স্বীকৃতি বা মর্যাদার চেয়ে মানুষের ভালোবাসা ও দয়ালু হিসেবে পরিচিতি পাওয়াটাই তার বাবার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই এই বিচ্যুতি তাকে খুব একটা বিচলিত করত না।
উল্লেখ্য, অস্কারের মঞ্চে ভারতীয় গুণীজনদের এভাবে অবহেলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও লতা মঙ্গেশকর ও দিলীপ কুমারের মতো বিশ্বনন্দিত শিল্পীদের নাম এই শ্রদ্ধাঞ্জলি বিভাগে না থাকায় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। সেই সময় অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে অস্কারের মতো অনুষ্ঠান বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এবারের ঘটনাটি সেই পুরোনো বিতর্ককে আবারও উসকে দিল, যেখানে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিদের যথাযথ মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

