চারদিকে শীতের আমেজ। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য খেজুর রস সংগ্রহে মেতে উঠেছেন গাছিরা। তাই এখন কদর বেড়েছে বাড়ির আনাচে কানাচে অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছের। এসব গাছ পরিচর্যায় গাছিদের ব্যস্ততাও চোখে পড়ার মতো। শীতের তীব্রতা বাড়লে রসের পরিমাণ বেশি হবে, জানান তারা। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-
দিনাজপুর : হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে মেতে উঠেছেন মৌসুমি গাছিরা। এর সঙ্গে তা থেকে গুড় তৈরিতেও ব্যস্ত তারা। এ কারণেই সারা বছর অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছের কদর বেড়েছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও বিরামপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় রেললাইনের দুই পাশে বেড়ে উঠা মালিকবিহীন খেজুর গাছ বর্তমানে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে কিছু গাছির। রাজশাহী ও নাটোর থেকে এসেছেন এসব গাছি। এ উদ্দেশ্যে শীত শুরুর আগেই এ এলাকায় আসেন তারা। ফাঁকা জায়গায় বসবাসের মতো ঘর তৈরি করে সেখানে থেকে খেজুর গাছ পরিচর্যা করছেন। প্রত্যেকে দৈনিক ২০০-২৫০ লিটার রস নামান। তা জাল দিয়ে গুড়ে রূপান্তর ও বিক্রয় করছেন। প্রতি কেজি গুড় ২০০ টাকা ও রস প্রতি গ্লাস ২০ টাকা দরে বিক্রয় করেন তারা। বছরের পাঁচ মাস তারা এ কাজ করেন। সরেজমিন দেখা যায়, রেললাইনের দুই পাশে সারি সারি খেজুরের গাছে ঝুলানো রয়েছে মাটির হাঁড়ি।
ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বোচাপুকুর গ্রামে শুরু হয়েছে খেজুরের গুড় উৎপাদন। সুগার মিলের মোহন ইক্ষু খামার খেজুর বাগানে এবারে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকায় ৭ শতাধিক গাছ বাৎসরিক চুক্তিতে লিজ নিয়ে গুড় তৈরি শুরু করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মনির। তার এ বাগানে কাজ করছেন সাতজন চাষি। জানা যায়, প্রায় ১০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে এ খেজুরের বাগানটি। চলতি মাসের শুরু থেকে সীমিত পরিসরে গুড় তৈরির কাজ শুরু করেছেন চাষিরা।
সখীপুর (টাঙ্গাইল) : উপজেলার গড়গোবিন্দপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেকটি খেজুর গাছের রস সংগ্রহের জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে গাছে নল লাগানো হয়েছে। বিকালে গাছ ছাঁটাই করে গাছিরা মাটির হাঁড়ি বেঁধে দিচ্ছেন। রাতের রসের হাঁড়িতে যেন বাদুর বসতে না পারে সে জন্য নেট ব্যবহার করা হচ্ছে। কাঁচা রস বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যায়। অনেকেই কাঁচা রস জাল দিয়ে গুড় তৈরি করেন।