ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামীকাল। তার আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, কাল সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। অধিবেশনে প্রবীণ রাজনীতিক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতিত্ব করতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্পিকার পদে পাঁচ কিংবা তার চেয়ে বেশিবার সংসদ সদস্য হয়েছেন এমন নেতাদের মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য কাউকে বেছে নেওয়া হবে। কারণ, সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সুন্দর সংসদীয় পরিবেশ সৃষ্টির জন্য গ্রহণযোগ্যতা থাকাটাও জরুরি। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে দুঃসময়ে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে যোগ্যদের মূল্যায়ন করবে দল।
সংবিধান অনুযায়ী, বিদায়ি সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করায় এবং হত্যা মামলায় ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় প্রথম অধিবেশন শুরু করতে একজন সভাপতি প্রয়োজন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কোনো কারণে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে অক্ষম হলে আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর তাঁর সভাপতিত্বেই সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে আলোচনায় যারা : সংসদের শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ বসাতে চাইছে বিএনপি। স্পিকার পদের জন্য ড. মঈন খান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন সংসদে বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুক। একাধিক হুইপ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া আর কেউ জানেন না, কে হতে যাচ্ছেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। সংসদ পরিচালনায় যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের মধ্য থেকে এ দুই পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
আবার সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের নামও স্পিকার হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। জয়নুল আবেদীন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সংবিধান ও সংসদীয় বিধিবিধান বিষয়ে দক্ষতার কারণে তিনি আলোচনায় আছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হবে। এ জন্য প্রধান বিরোধী দল জামায়াতকে নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে। জামায়াত থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার দেওয়া হলে তিনিই এ পদে নির্বাচিত হতে পারেন।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দলের একজনের নাম চাওয়া হলেও সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। সে ক্ষেত্রে করণীয় নিয়েও আজকের সংসদীয় দলের সভায় আলোচনা হতে পারে। জামায়াত নাম না দিলে সরকারি দল থেকেই সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ওই পদে প্রার্থী দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, জুলাই সনদে বলা হয়েছে, সংবিধানে এমন বিধান যুক্ত করা হবে, যাতে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। বিএনপি সনদের এই প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া একমত হয়েছিল। পাশাপাশি দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছে, সংসদের নিম্ন ও উচ্চকক্ষে ডেপুটি স্পিকারের পদ হবে দুটি। একটি নেওয়া হবে বিরোধী দল থেকে। তবে এসব করতে হলে আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

