জুলাই আন্দোলনের সফলতাকে অস্বীকার এবং গণভোটে হ্যাঁ-কে গুরুত্ব না দেওয়াসহ দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-চাঁদাবাজির অভিযোগে সুনামগঞ্জে বিএনপি ও শ্রমিক দলের দুই নেতা পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শহরের কাজির পয়েন্টের লতিফা কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগ করা দুই নেতা হলেন, তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন ও উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ফেরদৌস আলম। তাদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সফলতাকে ঘুরিয়ে পেছিয়ে অস্বীকার করছে বিএনপি। নির্বাচনী প্রচারণায় রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য আয়োজিত গণভোট প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
তারা বলেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনে শেষ মুহূর্তে এসে ‘বিনা কারণে’ দলের ‘নিবেদিত নেতাকে’ বাদ দেওয়ার বিষয়টি তাদের পদত্যাগের অন্যতম কারণ। বিনা কারণে একজন প্রার্থীকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। প্রার্থী নির্বাচনে দলের দুর্দিনের ত্যাগ ও দল নিবেদিত হাজার হাজার কর্মীর চোখের পানির কোন মূল্যায়ন করেনি দলের হাইকমান্ড।
এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের পর দলের অনেক নেতা চাঁদাবাজিসহ অনৈতিক কাজের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ করেছেন সাব্কে এই নেতারা। তাহিরপুর উপজেলায় পদধারী কিছু নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের পরও দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো চিহ্নিত অনেক অপরাধীকে দলে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
এছাড়া ৫ আগস্টের পর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে গ্রামের পর গ্রাম নদীগর্ভে বিলিনের হুমকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের পদদারী নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন বিএনপির অনেক নেতা।
এছাড়া রক্তি,পাটলাই, বৌলাই ও যাদুকাটা নদী দিয়ে চলাচলকারী নৌযান আটকে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন বিএনপি নেতৃত্বে ওপর। স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সীমান্তের তিনটি শুল্কস্টেশন চারাগাঁও, বাগলী ও বড়ছড়া দখল করে চলছে অভিযোগ করেছেন তারা।

