যুদ্ধে ডেনমার্কের কাছে হারবে যুক্তরাষ্ট্র?

0
যুদ্ধে ডেনমার্কের কাছে হারবে যুক্তরাষ্ট্র?

বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারিতে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্পের নতুন লক্ষ্য ইউরোপ তথা ন্যাটোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং খনিজ সম্পদে ভরপুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্পও হাতে রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের সাফ কথা, যুক্তরাষ্ট্র সুন্দরভাবে হোক বা কঠিন উপায়ে হোক গ্রিনল্যান্ড নিজের নিয়ন্ত্রণে নেবেই। এর কারণ হিসেবে তিনি উত্তর মেরু অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানোর অজুহাত দিচ্ছেন। তার মতে, গ্রিনল্যান্ডকে লিজ বা চুক্তির ভিত্তিতে নয় বরং পূর্ণ মালিকানার ভিত্তিতে রক্ষা করা প্রয়োজন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির জবাবে চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছে ডেনমার্ক। ড্যানিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে, তবে ডেনিশ সেনারা কোনো নির্দেশনার অপেক্ষা না করেই সরাসরি গুলি চালাবে।

ডেনমার্ক ‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’ নীতি অনুসরণ করবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটো জোটের এক সদস্য দেশের ওপর অন্য সদস্য দেশের এমন আক্রমণ হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব নিরাপত্তার শেষ পেরেক। 

গ্রিনল্যান্ড থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মূল ভূখণ্ড ডেনমার্কের জন্য সামরিক শক্তি বজায় রাখা কঠিন হলেও, তারা এই ভূখণ্ড রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার করেছে। ড্যানিশ প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ দিয়ে গ্রিনল্যান্ডকে পুনরায় সামরিকীকরণ করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

তবে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের যুদ্ধ লেগে যায়, তবে সেই লড়াইয়ে জিতবে কারা এমন প্রশ্নও উঠছে। সামরিক শক্তির বিচারে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান। 

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ২০২৫-এর র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সামরিক শক্তিতে এক নম্বরে, ডেনমার্কের অবস্থান সেখানে ৪৫তম। যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ লক্ষ সক্রিয় সেনার বিপরীতে ডেনমার্কের সেনাসংখ্যা মাত্র ৮৩ হাজার। বিমান এবং নৌবাহিনীর সক্ষমতায়ও দুই দেশের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। 

তবুও ১৯৫১ সালের একটি পুরোনো চুক্তি অনুযায়ী গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উপস্থিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার যে কোনো প্রচেষ্টাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে কোপেনহেগেন। রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধ সম্ভবত হবে না। তবে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ভেঙে পড়ার উপক্রম হতে পারে। আপাতত গোটা বিশ্বের নজর এখন আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ড্যানিশ প্রতিনিধিদের মধ্যকার বৈঠকের দিকে।

সূত্র: এনডিটিভি 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here