ঝিনাইদহে ভূমি অফিসের দাখিলা বইয়ের পাতা গায়েব ও দুর্নীতির দায়ে এক অফিস সহায়ককে বিভিন্ন মেয়াদে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকালে বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল হক ভাস্কর মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। তিনি নেপা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত বিভিন্ন ধারায় আসামিকে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে রায়ে সব সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সাজাগুলোর মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ, অর্থাৎ আসামিকে মোট ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর নেপা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি দাখিলা বই থেকে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে আটটি পাতা ছিঁড়ে নেওয়া হয়। ওই বছরের ২৯ নভেম্বর বই পরীক্ষা করতে গিয়ে পাতা গায়েবের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে অফিস সহায়ক রেজাউল হক ভাস্কর পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
পরে মহেশপুর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে রেজাউল হকের বাড়ি থেকে বেশ কিছু দাখিলার কপি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার কক্ষ থেকে দুটি ডি.সি.আর কপি, সরকারি নথিপত্র এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সিলমোহর ও টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সরকারি নথিপত্র ও সম্পদ আত্মসাৎ এবং বিনষ্ট করার অভিযোগে নেপা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহজাহান আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক রিজিয়া খাতুন ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ আদালতে এ মামলার চার্জশিট জমা দেন। মামলাটি পরবর্তীতে বিচারের জন্য ঝিনাইদহ থেকে যশোর বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আদালত রায় ঘোষণা করে।

