বগুড়ায় তীব্র গরম, স্বস্তি মিলছে না ঘরে-বাইরে

0
বগুড়ায় তীব্র গরম, স্বস্তি মিলছে না ঘরে-বাইরে

প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বগুড়ার জনজীবন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরমের তীব্রতায় অতিষ্ঠ সবাই। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির দেখা না থাকায় পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সহসাই বৃষ্টির দেখা মিলবে, এমন আশার বাণীও শোনাতে পারেনি আবহাওয়া অফিস। গরমে ঘরে বাইরে কোথাও রেহাই মিলছে না, হাঁসফাঁস অবস্থায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। 

এর মধ্যে বুধবার বিকাল ৩টায় বগুড়ার তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা এ মৌসুমে জেলার সর্বোচ্চ।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুনের শুরু থেকে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রির ঘরে ওঠানামা করছে। ভ্যাপসা গরমে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অসহনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। গরম থেকে বাঁচতে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করাও নদী ও পুকুরে নেমে স্বস্তি খুঁজছেন। বার বার গোসল করে শরীর ঠান্ডা করছেন। অনেকেই আবার ছায়াযুক্ত জায়গায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। প্রখর রোদের মধ্যে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে আসছে না। নিতান্ত প্রয়োজনে যারা বের হচ্ছেন তারাও খুব বেশি সময় বাইরে টিকতে পারছেন না।

তপ্ত রোদের কারণে ভ্যান ও রিকশাচালকরা যাত্রী না পেয়ে অলস সময় পার করছেন। রোদে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে গায়ে ফোসকা পড়ার মতো অবস্থা হচ্ছে। রাস্তা-ঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রোদের তীব্রতায়। এই আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে আছেন শ্রমজীবী মানুষ, নির্মাণ শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, কৃষক, শিশু ও বৃদ্ধরা। সূর্যের তাপ যেন তাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে।

বগুড়া শহরের কলোনি এলাকার বাসিন্দা মো. আমিনুল হক আরজু বলেন, ‘প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরমে বাড়িতে টিকতে পারছি না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিছানা, মেঝে, এমনকি আসবাবপত্রগুলোও তেতে থাকছে। দিনের বেলা বিছানায় শুয়ে থাকা যাচ্ছে না। রাতেও স্বস্তি মিলছে না। বাহিরেও একই অবস্থা।’

স্বাস্থ্যখাতেও চাপ বাড়ছে। হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার খাওয়া এবং সরাসরি রোদে বের না হওয়াই ভালো।  

বগুড়া আবহাওয়া অফিসের পেশাগত সহকারী মো. আশেকুর রহমান জানান, আজ বিকাল ৩টায় বগুড়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এখন পর্যন্ত সহসাই বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here