ট্রাম্পের বক্তব্যকে সন্দেহের চোখে দেখছে ইরান

0
ট্রাম্পের বক্তব্যকে সন্দেহের চোখে দেখছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও তেহরান এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে সন্দেহের চোখে দেখছেন এবং বলছেন, এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা নতুন সমঝোতা শুরু হয়নি।

ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তিনি জানান, এই আলোচনা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। তার দাবি, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং যুক্তরাষ্ট্রও একইভাবে আগ্রহী।

ট্রাম্প আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক তার দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার এই আলোচনায় ভূমিকা রাখছেন। এমনকি ফোনের মাধ্যমেও দুই পক্ষের যোগাযোগ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে ইরানের ঠিক কার সঙ্গে এই আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। তিনি শুধু বলেন, এতে ইরানের একজন ‘উচ্চপর্যায়ের সম্মানিত নেতা’ যুক্ত আছেন।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এসব বক্তব্যের উদ্দেশ্য জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করা।

বিশ্লেষকদের ধারণা, দুই পক্ষের মধ্যে হয়তো কোনো ধরনের মধ্যস্থতা হয়েছে। কিন্তু তা এখনো আলোচনার টেবিলে বসার মতো আনুষ্ঠানিক সংলাপে রূপ নেয়নি। ইরানের জন্যও এটি সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনার সূচনা নয়। কারণ অতীতে তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপ নিয়ে তারা অত্যন্ত সতর্ক ও সন্দিহান—বিশেষ করে ট্রাম্পের ব্যাপারে।

তবে, ইসরায়েলের হারেৎজ পত্রিকার কলামিস্ট গিডিয়ন লেভি মনে করেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তার মতে, পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটছে এবং আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হতে পারে। এই বিশ্লেষক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প এমন সিরিয়াস বিষয়ে ‘খেলা’ করছেন না। কারণ, এখানে লাখো মানুষের জীবন জড়িত। তাই এই আলোচনা বাস্তব এবং তা গুরুত্বের সঙ্গেই এগোচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।

এদিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

এসব আলোচনায় তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন—হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন কোনো চুক্তি হয়নি এবং এই জলপথ এখনো ইরানের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here