তেহরানের রাজপথে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গণবিক্ষোভের আগুন জ্বলেছিলো। সেই আগুন আপাতত নিভলেও ক্ষোভ কমেনি। আবারও যেকোনো সময় বড় কিছু ঘটতে পারে।
ইরান এখন এমন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যেখানে প্রশ্নটি আর শাসনব্যবস্থা টিকবে কি না সেই গণ্ডিতে আটকে নেই। বরং প্রশ্ন হলো খামেনি পরবর্তী শূন্যতা কীভাবে পূরণ হবে? এই পরিবর্তনের ধাক্কা আরব বিশ্বের ওপর কতটা প্রবলভাবে আছড়ে পড়বে?
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ভবিষ্যৎ মূলত পাঁচটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, দীর্ঘদিনের নির্বাসিত রাজতন্ত্রী বা বিরোধী দলগুলোর মাধ্যমে একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তরণ। যদিও জনমানসে পাহলভি আমলের প্রতি এক ধরনের নস্টালজিয়া কাজ করছে, কিন্তু শক্তিশালী কাঠামোর অভাবে এই পথটি এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা। দ্বিতীয় একটি সম্ভাবনা হলো ২০০৩ সালের ইরাক মডেলের পুনরাবৃত্তি। বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ বা মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলার মাধ্যমে রাষ্ট্রের পতন ঘটলে ইরান ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটে পড়তে পারে। ফলে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়বে।
তবে সবচেয়ে আলোচিত চিত্রটি হলো একটি পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ বিপ্লব। তরুণ প্রজন্মের তীব্র ক্ষোভ যদি শাসনব্যবস্থাকে ভেতর থেকে ধসিয়ে দেয়, তবে ক্ষমতার কেন্দ্রে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে। এই পরিস্থিতিতে আরেকটি বিপজ্জনক মোড় আসতে পারে; বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসি-র পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারে। সেক্ষেত্রে ধর্মীয় পোশাক ত্যাগ করে ইরান একটি উগ্র জাতীয়তাবাদী সামরিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। যা হবে খামেনি পরবর্তী সময়ের চতুর্থ এবং অত্যন্ত বাস্তবধর্মী চিত্র। এর পাশাপাশি ইরানের জাতিগত বৈচিত্র্য যেমন; কুর্দি, বালুচ বা আজেরি জনগোষ্ঠীর স্বাধিকার আন্দোলন দেশটিকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।
এই পরিবর্তনের ঢেউ কেবল ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে ইরানের যে বিশাল প্রভাব রয়েছে, তেহরানের ক্ষমতার পালাবদলে সেই আধিপত্য মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। আরব বিশ্ব দীর্ঘ চার দশক ধরে ইরানের যে ছায়ার নিচে ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ যেমন তৈরি হবে, তেমনি তৈরি হবে বিশাল শূন্যতা। ইসরায়েল এই পতনকে কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখলেও, ইরান যদি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তবে সেই বিশৃঙ্খলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করতে পারে।
সূত্র: আরব উইকলি

