খরার ঝুঁকিতে রংপুর অঞ্চল

0
খরার ঝুঁকিতে রংপুর অঞ্চল

রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ গত চার মাস ধরে বৃষ্টির দেখা পাচ্ছে না। ফলে প্রকৃতিতে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। খরার ঝুঁকিতে পড়েছে এই অঞ্চল। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসলের চাষাবাদে সেচ দিয়ে বাড়তি খরচের বোঝা বইতে হচ্ছে কৃষকদের। আবহাওয়া অফিস এই পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক আবহাওয়া হিসেবে মনে করছে। এ অবস্থায় বোরোসহ অন্যান্য ফসল এখন পুরোপুরি সেচনির্ভর হয়ে পড়েছে। অপরিকল্পিত সেচযন্ত্র ব্যবহারের ফলে কৃষকদের বাড়তি খরচের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নেমে যাচ্ছে। জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন, গাছপালা কমে যাওয়া, নদী-নালা ও খাল-বিলে পানি না থাকা—এসব কারণে এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের হার অস্বাভাবিকভাবে কমে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অঞ্চলটি দ্রুত মরুকরণের দিকে এগিয়ে যাবে বলে শঙ্কা করছেন পরিবেশবিদ ও আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের হার ছিল শূন্যের কোঠায়। অর্থাৎ চার মাসে রংপুর অঞ্চলে বৃষ্টি হয়নি। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসেও মানুষ বৃষ্টির দেখা পায়নি। বিগত চার বছর ধরে টানা চার মাস বৃষ্টি শূন্য রয়েছে এ অঞ্চল। ধারণা করা হচ্ছে, মার্চ মাসেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত নাও হতে পারে। খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে কৃষিক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তথ্য অনুযায়ী খরার ঝুঁকিতে রয়েছে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে উত্তরাঞ্চল বৃষ্টি শূন্য হয়ে পড়ছে, ফলে প্রকৃতিতে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি বছরে এ অঞ্চলে এলোমেলো আবহাওয়া বিরাজ করছে। এবারের শীত দীর্ঘ হয়েছে। মাঘ শেষ হলেও ফাল্গুনে রাতের বেলায় এখনো শীতের আমেজ রয়েছে। বৃষ্টির অভাবে খরা পরিস্থিতি চার থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

এদিকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বোরোসহ অন্যান্য আবাদ পুরোপুরি সেচনির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে। রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় কয়েক লাখ সেচযন্ত্র দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে। আবাদি জমিও সেচ সংকটে পড়ছে। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন থাকলেও তার কার্যকর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, অন্য সময় ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কিছু বৃষ্টি হলেও গত কয়েক বছর ধরে রংপুর অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। মার্চেও স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত নাও হতে পারে। একে অস্বাভাবিক আবহাওয়া বলা যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here