ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ব্যাট পেল বৈধতা

0
ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ব্যাট পেল বৈধতা

ক্রিকেট ব্যাট তৈরির নিয়মে বড় পরিবর্তন আনছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। আগে যেসব ব্যাটকে ‘অবৈধ’ হিসেবে গণ্য করা হতো, এবার সেগুলোকেও নির্দিষ্ট শর্তে বৈধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা সংস্থাটি।

ইংলিশ উইলোর (কাঠ) দাম বেড়ে যাওয়ায় অপেশাদার ও বিনোদনমূলক ক্রিকেটে ব্যাট কেনা দিন দিন ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। খেলাটিকে সবার জন্য আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এমসিসি।

এমসিসি ঘোষণা দিয়েছে, ক্রিকেট আইনের নতুন সংস্করণে মোট ৭৩টি পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা কার্যকর হবে আগামী চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে।

এবার ওপেন এজ ক্রিকেটেও ব্যবহার করা যাবে ল্যামিনেটেড ব্যাট। আইন ৫.৮–এর অধীনে ‘ব্যাটের ধরন’ সংক্রান্ত সংশোধনে এমসিসি জানিয়েছে, এখন থেকে ওপেন এজ বিনোদনমূলক ক্রিকেটে ব্যবহার করা যাবে ল্যামিনেটেড ব্যাট, যেগুলোকে বলা হয় টাইপ ডি ব্যাট।

এই ব্যাট সর্বোচ্চ তিনটি কাঠের অংশ দিয়ে তৈরি হতে পারে। এর আগে টাইপ ডি ব্যাট শুধু জুনিয়র ক্রিকেটে অনুমোদিত ছিল। কিন্তু ব্যাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার বড়দের ক্রিকেটেও এটি বৈধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ল্যামিনেশনের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যাটের সামনে থাকে ইংলিশ উইলো, আর পেছনে যুক্ত করা হয় তুলনামূলক সস্তা ও কম মানের কাঠ, যেমন কাশ্মীরি উইলো।

টাইপ এ, বি ও সি ব্যাট এক টুকরো উইলো কাঠ দিয়ে তৈরি হয় এবং পেশাদার ক্রিকেটে এগুলোই বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উইলোর বাইরে অন্য কাঠও ব্যবহার করা যাবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাটের মুখের পেছনের অংশে উইলোর পরিবর্তে অন্য কাঠ ব্যবহারেরও অনুমতি দেওয়া হবে।

এমসিসির আইন ব্যবস্থাপক ফ্রেজার স্টুয়ার্ট জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,‘টাইপ ডি ব্যাটের পারফরম্যান্স সুবিধা খুবই সামান্য। নিচের স্তরের ক্রিকেটকে সাশ্রয়ী করতে যদি আমরা কিছু করতে পারি, অথচ খেলাটির স্বাভাবিক গতি ও ভারসাম্য নষ্ট না হয়, তাহলে সেটি যুক্তিসংগত পদক্ষেপ।’

এমসিসির মতে, ইংলিশ উইলোর প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাটের দাম দ্রুত বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে চাহিদা বাড়ায় বিশ্ববাজারে ব্যাটের দাম নাকি প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক শীর্ষ মানের ব্যাটের দাম পৌঁছেছে প্রায় ১ হাজার পাউন্ডে।

স্টুয়ার্ট বলেন, ‘পর্যাপ্ত উইলো আর পাওয়া যাচ্ছে না। তাই টেকসইভাবে যতটা সম্ভব গাছের কাঠ ব্যবহার করতে হবে।’

বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এমসিসি বিকল্প উপকরণ দিয়েও ব্যাট তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে খেলাটির ভারসাম্য নষ্ট হওয়া বা ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা আগে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, উইলোর বদলে বাঁশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

গ্রাফাইট-ব্যাকড ব্যাটও একসময় আলোচনায় ছিল, যদিও তা ২০০৬ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিল।  নতুন সংস্করণে আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন থাকছে। যেমন বহুদিবসীয় ম্যাচে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও ওভার শেষ না হওয়া পর্যন্ত খেলা চলবে। বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে ধরা ক্যাচের ক্ষেত্রে ‘বানি হপ’ কৌশল সীমিত করা হয়েছে।

উইকেটকিপারের গ্লাভস বল ছাড়ার আগে স্টাম্পের সামনে থাকলেও, বল ছাড়ার সময় অবশ্যই পেছনে থাকতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে শর্ট রান করলে ফিল্ডিং দল শাস্তিস্বরূপ পরবর্তী ব্যাটার নির্ধারণ করতে পারবে।

এ ছাড়া ক্রিকেট আইনের ভাষা আরও সহজ করা এবং লিঙ্গভিত্তিক শব্দ বাদ দেওয়ার কাজও সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এমসিসি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here