মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। রবিবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয় দুই পক্ষ। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তি কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই চুক্তিতে পৌঁছতে চীনের কী ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা ও পরবর্তী আলোচনার পথ তৈরিতে বেইজিং ‘নিজস্ব উপায়ে’ উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র- উভয় দেশের সঙ্গেই আলাদাভাবে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চীন। তার মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা।
ওয়াং ই আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চীন পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, কোনও ধরনের বিরতি ছাড়াই শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে বেইজিং দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে চীনের এই কূটনৈতিক সক্রিয়তা বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে বেইজিংয়ের ভূমিকা আরও সম্প্রসারিত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথ নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে চীনের এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ‘অ-হস্তক্ষেপ নীতি’ বজায় রাখলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে বেইজিংয়ের সক্রিয় ভূমিকা সেই নীতিগত পরিবর্তনেরই অংশ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র: আল-জাজিরা

