‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি সংঘাতের প্রয়োজন নেই’

0
‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি সংঘাতের প্রয়োজন নেই’

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং মার্কিন রণতরীর উপস্থিতির মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তির বার্তা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

মঙ্গলবার দুবাইয়ে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিট’-এ আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এক প্যানেল আলোচনায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি সংঘাতের প্রয়োজন নেই, বরং তেহরানের উচিত ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানো।

আগামী শুক্রবার তুরস্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার খবরের প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের অভিমুখে বড় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অগ্রসর হচ্ছে এবং কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে। আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত বলছে, তারা এই সংকটের একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান চায়।

দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা গারগাশ বলেন, “এই অঞ্চলটি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন বিপর্যয়কর সংঘাতের মধ্য দিয়ে গেছে। আমি মনে করি না আমাদের আরেকটি সংঘাতের প্রয়োজন আছে। আমি বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা দেখতে চাই যা একটি সমঝোতার দিকে নিয়ে যাবে, যাতে আমাদের প্রতিদিন এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়।”

তিনি আরও বলেন, “তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। আমি মনে করি একটি রাজনৈতিক চুক্তি, একটি ব্যাপকভিত্তিক ভূ-কৌশলগত চুক্তিতে পৌঁছানো গেলে তা এই এলাকার জন্য সুবিধাজনক হবে। ইরানিরাও নিজেদেরকে সহায়তা করছে সর্বোপরি তাদের যা প্রয়োজন সেটার জন্য, আর তা হচ্ছে তাদের অর্থনীতি পুনর্গঠন করা।”

ইস্তাম্বুলের আসন্ন বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি অংশ নেবেন। এতে সৌদি আরব ও মিশরের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিনিধিদেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের পর ইরান উপকূলের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভ চলার সময় তাতে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েও পরে তা বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত থেকেছেন। তবে ইরানে আপাতত হস্তক্ষেপ না করলেও তিনি দেশটিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিকে পৌঁছার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, “ইরান গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করছে।” ওদিকে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিও জানিয়েছেন, “আলোচনার প্রস্তুতি চলছে।”

ইরানি সূত্রগুলো গত সপ্তাহে রয়টার্সকে জানায়, আলোচনার জন্য ট্রাম্প তিনটি শর্ত দিয়েছেন। এক. ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা, দুই. ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সিমীত রাখা এবং তিন. আঞ্চলিক ছায়া গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করা।

ইরান দীর্ঘদিন থেকেই এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের চেয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার বিষয়টিই আলোচনায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here