অপহরণকারীর চিরকুটে বেরিয়ে আসল শিশু হত্যার মূলহোতারা

0
অপহরণকারীর চিরকুটে বেরিয়ে আসল শিশু হত্যার মূলহোতারা

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার গোবিন্দখীল এলাকায় জায়ান পাঁচ বছরের শিশু নিখোঁজের পর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় জিডি করে পরিবার। পুলিশ জায়ানের শয়নকক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে এবং সেখানে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেই চিরকুটের প্যাড, খসড়া লেখা এবং হাতের লেখার মাধ্যমে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা অপহৃত শিশুর প্রতিবেশী।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ কয়েকটি সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি চালায়। এক পর্যায়ে একটি বাড়ির ঘরের ভেতরে পাওয়া যায় ঠিক একই ধরনের একটি প্যাড, যেটির কাগজে মুক্তিপণের চিরকুট লেখা হয়েছিল। শুধু প্যাডই নয়, আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি আলামত উদ্ধার হয় ওই ঘর থেকে। তদন্তকারীরা দেখতে পান, চিরকুট লেখার আগে কয়েকবার খসড়া বা ড্রাফট তৈরি করেছিল। সেই ড্রাফটের কিছু অংশও পাওয়া যায় ঘরটির ভেতরে।

পুলিশ সুপার বলেন, যে প্যাডে চিরকুট লেখা হয়েছিল, একই ধরনের প্যাড আমরা একটি ঘরে পাই। খুঁজতে খুঁজতে ওই চিরকুট লেখার খসড়ার অংশও উদ্ধার হয়। তখন আমরা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাই, এই বাড়ি থেকেই চিরকুটটি লেখা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে ওই পরিবারের কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে। এরপর ওই বাড়ির সদস্যদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেককে আলাদাভাবে কিছু লেখা লিখতে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল চিরকুটের লেখার সঙ্গে কারও হাতের লেখা মেলে কি না তা যাচাই করা। তদন্তের এক পর্যায়ে ওই বাড়ির মেয়ে সাদিয়া আক্তার নেহার লেখার সঙ্গে চিরকুটের লেখার উল্লেখযোগ্য মিল খুঁজে পান তদন্তকারীরা। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী প্রথমে অন্য একজনকে জড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েন। গভীর রাতে তিনি স্বীকার করেন, মুক্তিপণের চিরকুট তিনিই লিখেছিলেন।

পুলিশ জানান, ওই স্বীকারোক্তির পরই তদন্ত নতুন মোড় নেয়। এরপর অভিযুক্ত তরুণীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় শিশু জায়ানের মরদেহ।

জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম আরও জানান, খুব ছোট ছোট ক্লু ধরে আমরা এগিয়েছি। চিরকুটের কাগজ, খসড়া লেখা আর হাতের লেখার মিল থেকেই আমরা মূল সন্দেহভাজনের কাছে পৌঁছে যাই। এরপর পুরো ঘটনাটি উদঘাটন করা সম্ভব হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এতে ওই তরুণী সাদিয়া আক্তার নেহা ও তার বাবা-মাকে আসামি করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here